মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

সাগরে ফেলে দেওয়া হবে মহাকাশ স্টেশন


DhakaReport24.com || 2019-10-27 12:55:00
সাগরে ফেলে দেওয়া হবে মহাকাশ স্টেশন

নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইসা), জাপান স্পেস এজেন্সি (জাক্সা), রুশ মহাকাশ সংস্থা (রসকসমস) ও কানাডার মহাকাশ সংস্থার (সিএসএ) মিলে দুই দশক আগে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। তারপর এই মহাকাশ স্টেশনটি হয়ে ওঠে বিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্যতম এক ল্যাবরেটরি। প্রোটিন, অণুজীব, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে সেখানে গবেষণা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। মাইক্রোগ্র্যাভিটিই ওই সব গবেষণার আদর্শ পরিবেশ। যেখানে বায়ুমণ্ডল নেই। নেই পৃথিবীর জোরালো অভিকর্ষ বলও। তাই বিভিন্ন ওষুধ আবিষ্কারেরও আদর্শ জায়গা আন্তর্জাতিক এই মহাকাশ স্টেশন। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা মত দিয়েছেন সেই মহাকাশ স্টেশনকে সাগরে ছুড়ে ফেলার। এটিকে সাগরে ছুড়ে ফেলার প্রধান কারণ খরচ চালাতে পারছে না মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো।

ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ওপরে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা এই মহাকাশ স্টেশনকে সাগরে ফেলে দিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন স্থায়ীভাবে চাঁদের বুকে গড়তে চাইছেন তাদের সেই আদর্শ গবেষণাগার। ৩ লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার দূরে চাঁদ-মুলুকের ওপর আস্থা রাখতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। সেটির নামও এক প্রকার ঠিক করে ফেলেছেন—‘লুনার স্টেশন’। প্রকল্পের নাম ‘আর্টেমিস’।

পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা মহাকাশ স্টেশনটি মূলত সূর্যশক্তিকে কাজে লাগায়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মহাকাশে রয়েছে মহাকাশ স্টেশনটি। এই দুই দশকে এটি গড়ে দিয়েছে সভ্যতার উজ্জ্বল ইতিহাস। এটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তদানন্তীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান মহাকাশ স্টেশন বানানোর জন্য নাসাকে ১০ বছর সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। বিপুল খরচের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পে রাখা হলো রাশিয়া (তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন), জাপান ও কানাডাকে। ইউরোপ মহাদেশের মহাকাশ সংস্থা ‘ইসা’কেও রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

১৯৯৮-এর ২০ নভেম্বর মহাকাশ স্টেশনের রশদ নিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে পাড়ি জমায় রুশ রকেট ‘জারিয়া’। এর ১৫ দিন পরই ৪ ডিসেম্বর রওনা হয় মার্কিন স্পেস শাটলও। ২০০০ সালে মহাকাশচারীরা প্রথম মহাকাশ স্টেশনে পা রাখলেন। স্টেশনে থেকে গবেষণা চালানোর জন্য রওনা হলেন তিন মহাকাশচারী—দুই জন রুশ, একজন মার্কিন। ইউরি গিদজেন্?কো, সের্গেই ক্রিকালেভ ও বিল শেফার্ড।

কিন্তু পুরোদস্তুর গবেষণার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি গবেষণাগারের। সেটি বানালো আমেরিকা। নাম—‘ডেস্টিনি’। মহাকাশ স্টেশনে তা পাঠানো হলো ২০০১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। ‘ডেস্টিনি’ এখনো আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে মার্কিন মহাকাশ গবেষণার ‘ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট ডেস্টিনেশন’। পরে সেখানেই আমেরিকা গড়ে তুলেছে মহাকাশে তাদের জাতীয় গ্রন্থাগারটি, ২০০৫-এ মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের পর।

পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির (জেপিএল) সিনিয়র সায়েন্টিস্ট গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, নাসার লক্ষ্য এখন চাঁদে আস্তানা গড়ে তোলা। চাঁদে ফের মানুষ নামানো। চাঁদের বুকে কিছু দিন ধরে মানুষকে রাখা। মঙ্গলে পাকাপাকিভাবে সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশ গড়ে তুলতে হলে চাঁদই হবে আমাদের সেরা গবেষণাগার। তার জন্যই যাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বারবার চাঁদে নামা যায়, নাসার লক্ষ্য এখন সেটাই। তাই নাসা এখন পাকাপাকিভাবে আস্তানা গড়ে তুলতে চাইছে চাঁদের কক্ষপথে। সেটাই নাসার ‘আর্টেমিস’ প্রকল্প। ফলে মহাকাশ কেন্দ্রের পেছনে আর অর্থ ব্যয় করতে চাইছে না নাসা।

মহাকাশ গবেষণা স্টেশনটি দেড় ঘণ্টায় একবার করে প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবীকে। দিনে পৃথিবীকে প্রায় সাড়ে ১৫টি কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চলেছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র। গৌতম বলেন, অচল হয়ে পড়লেও মহাকাশ কেন্দ্রটির এই প্রদক্ষিণ চলতে পারে অনন্তকাল। তবে তাতে অন্য মহাকাশযান পাঠাতে অসুবিধা হতে পারে। তাদের আসা-যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে মহাকাশ কেন্দ্র। আবর্জনা (স্পেস ডেব্রি) বাড়াতে পারে মহাকাশে। তাই তাকে নামিয়ে আনাটাই জরুরি। সেটা পাঁচ বছরের মধ্যে যদি না হয়, তা হলে তা অবশ্যই হবে ২০৩০-এর মধ্যে। হয়তো প্রশান্ত মহাসাগরেই নামিয়ে ফেলা হবে তাকে। তত দিনে চাঁদের কক্ষপথে পাকাপাকিভাবে আস্তানা (আর্টেমিস) গড়ে তুলতে পারবে নাসা। আর মহাকাশ স্টেশনটির ‘শান্তির নির্বাণ’ হবে প্রশান্ত মহাসাগর। —বিবিসি