সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে কর্মীদের বরখাস্ত করেছে গুগল
DhakaReport24.com || 2020-12-07 21:33:15
ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টার কারণে কর্মচারীদের অবৈধভাবে বরখাস্ত করেছে গুগল, জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এজেন্সি। খবর বিবিসি।
ইউএস ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস বোর্ডের (এনএলআরবি) দায়ের করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, গুগল কর্মচারীদের ইউনিয়ন কার্যক্রম অবৈধভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
যদিও বলা হচ্ছে, গুগল তথ্য সুরক্ষা নীতি ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন সদস্যকে বরখাস্ত করেছে। কিন্তু এনএলআরবি বলছে, এ নিয়ম কেবল তাদের ওপরই প্রয়োগ করা হয়েছে, যারা ইউনিয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে গুগল।
এটা সামনে এসেছে একজন বিখ্যাত গুগল কর্মী এবং আই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) এথিকসের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব টিমনিট গেব্রু ছাঁটাই হওয়ার পর। তিনি বলেছেন, কর্মচারীদের একটি ই-মেইল পাঠানোর জের ধরে বরখাস্ত করা হয়েছে তাকে।
কেন তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে?
এনএলআরবি এক বছর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ছাঁটাই হওয়া চারজন কর্মীর বিষয়টিও মোকাবেলা করছে, যারা মূলত ‘থ্যাংকসগিভিং ফোর’ নামে পরিচিত। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ছাঁটাই করা হয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নীতি ভঙ্গ করার জন্য। কিন্তু সেই কর্মীরা দাবি করেছিলেন তাদের বরখাস্ত করা হয় মূলত গুগলের নীতিমালা নিয়ে আওয়াজ তোলার কারণে।
এনএলআরবির অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গুগলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা সবসময় অভ্যন্তরীণ আলোচনার সংস্কৃতিকে সমর্থনের কাজ করছে। সেখানে তারা আরো বলে, যে পদক্ষেপ কর্মচারীরা গ্রহণ করেছে তা আমাদের নীতিমালার মারাত্মক পরিপন্থী ছিল এবং বিশ্বস্ত দায়বদ্ধতার অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন ছিল।
কিন্তু এনএলআরবি বলেছে, এ বিধিগুলো কেবল সেই কর্মীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে যারা শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল।
গুগল কী করবে?
অভিযোগে দুই কর্মীর পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মীরা সংগঠন সংক্রান্ত কাজের জন্য শ্রমিক ক্যালেন্ডার এবং সভা কক্ষের মতো মৌলিক সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করেছিল। যার প্রতিক্রিয়ায় গুগল তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল। এনএলআরবি বলছে, এগুলো শ্রমিক সংগঠনের নিয়মের অধীনে সুরক্ষিত কার্যক্রম ছিল। পাশাপাশি বলা হয়, এখানে কর্মীদের অনির্ধারিত প্রতিশোধের হুমকিও দেয়া হচ্ছে এবং দাবি করা হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে যেকোনো উদ্বেগ তারা কেবল অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে সমাধান করবে।
এনএলআরবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে গুগল সরাসরি কাজের সঙ্গে যুক্ত কারণ ছাড়া কর্মচারীদের একে অন্যের ক্যালেন্ডারে প্রবেশ আইন জারি করে নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি কোনো ইউনিয়ন গঠন করা, যোগ দেয়া কিংবা সহযোগিতা করাকেও নিরুৎসাহিত করা হয়।
এমনকি এ ধরনের কার্যকলাপকে নিরুৎসাহিত করতে, কোম্পানিটি একই রকম কাজের সঙ্গে যুক্ত অনেককে বরখাস্ত করে।
এনএলআরবির অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য গুগলকে দুই সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে। যার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী এপ্রিলে। এ প্রসঙ্গে অভিযোগপত্রে নাম থাকা কর্মী লরেন্স বার্লেন্ড বলেন, যেসব কর্মী নৈতিকতা, হয়রানি, বৈষম্য এবং এ ধরনের কাছাকাছি বিষয়ে কথা বলে তাদের গুগলে মোটেই ভালো দেখা হয় না। আমার মনে হয়, এটা সেখানকার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অংশ।
এনএলআরবির সংবাদ যেদিন সামনে এসেছে, সেদিনই গুগল এআই দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য টিমনিট গেব্রু বলেছেন, গুগল তাকে বরখাস্ত করেছে।
এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ব্রায়ান ওমেন অ্যান্ড অ্যালাইসের (একটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপ) কাছে পাঠানো একটি মেইলের কারণে আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গেবরুর এ বক্তব্যের পর এখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে গুগল।