কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপের কার্যকারিতার প্রমাণ নেই
DhakaReport24.com || 2020-10-26 21:31:15
কভিড-১৯-এর প্রথম ঝড় চলার সময় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক একটি কম্পিউটার মডেল তৈরি করে পরামর্শ দেন, যদি যুক্তরাজ্যের ৫৬ শতাংশ মানুষ কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ ডাউনলোড করে এবং ব্যবহার করে (অন্যান্য নিয়ন্ত্রণবিধিসহ) তবে তা দেশটির মহামারীর ইতি ঘটাতে পারে।
কেবল সেপ্টেম্বরের পর এই ইংলিশ অ্যাপটি উপলব্ধ হয়েছিল। তাই এটা বলা খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে যে সিস্টেমটি আসলে কেমন কাজ করছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের অ্যাপগুলো যা আরো দীর্ঘ সময় ধরে উপলব্ধ সেগুলো কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যাপারে খুব সামান্য প্রমাণ দিচ্ছে, কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা একেবারেই দিতে পারছে না।
অবশ্য এর মানে এই নয় যে এখনই কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের শেষ দেখে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু প্রমাণের এ স্বল্পতা, যে মনোযোগ ও অর্থ এসব অ্যাপে দেয়া হচ্ছে, তাকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি করে। পাশাপাশি এটি নিয়ে নেয়া নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলোও।
নানা ভবিষ্যদ্বাণী সত্ত্বেও ৬৭.৫ থেকে ৮৫.৫ শতাংশ সম্ভাব্য অ্যাপ ব্যবহারকারী অ্যাপটি ডাউনলোড করেছে। তবে বিশ্বব্যাপী কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপের ডাউনলোড হার এখন পর্যন্ত খুব নিম্ন। যা অনেকটা ২০ শতাংশের মতো হতে পারে। জার্মানিতে এটি ২১ শতাংশ, ইতালিতে ১৪ শতাংশ, ফ্রান্সে কেবল ৩ শতাংশ। আইসল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর, যারা প্রথম এ অ্যাপ চালু করেছিল তাদের ব্যবহারের হার ৪০ শতাংশের মতো।
ডাউনলোড হার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ আপনি যদি আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে আসার কারণে সিস্টেম দ্বারা সতর্ক হতে চান, তবে অনেক বেশি মানুষের কাছে এ অ্যাপটি থাকা জরুরি।
বিস্তৃতভাবে হিসাব করলে যদি ২০ শতাংশ জনগণ অ্যাপ ব্যবহার করে তবে কেবল ৪ শতাংশ সুযোগ আছে আরেকজন অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংস্পর্শে আসার। ডাউনলোড হার যদি ৪০ শতাংশ হয়, তবে আরেকজন সক্রিয় অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা হচ্ছে ১৬ শতাংশ।
তবে কিছু প্রভাবের জন্য অ্যাপ হয়তো উচ্চহারে ডাউনলোড না করলেও চলবে। অক্সফোর্ডের গবেষকদের দ্বিতীয় একটি রিপোর্ট পরামর্শ দেয় যে সুসজ্জিত একটি কন্টাক্ট ট্রেসিং সিস্টেম, যেখানে ডিজিটালের পাশাপাশি ম্যানুয়েল নোটিফিকেশনও অন্তর্ভুক্ত, তা সংক্রমণ হ্রাস করতে পারে ৪ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত এবং মৃত্যু হ্রাস করতে পারে ২ থেকে ১৫ শতাংশ। সেক্ষেত্রে মাত্র ১৫ শতাংশ জনগণ অ্যাপটি ব্যবহার করলেই চলবে।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে যেখানে কন্টাক্ট ট্রেসিং দলের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে পাঠাতে চারদিন লাগে, সেখানে অ্যাপ সেটি করতে পারে মাত্র দুদিনের মধ্যে।
কিন্তু বাস্তব দুনিয়ায় অ্যাপ ডাউনলোড করা মানে এটা ব্যবহার করা নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আপনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন অ্যাপসের এ সতর্কতায় সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে যাওয়া। ৩০ হাজার লোককে নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যখন ম্যানুয়াল কন্টাক্ট ট্রেকিং সিস্টেম কাউকে সেলফ আইসোলেশনে যেতে বলে তখন তাতে সাড়া দিতে মাত্র ১৮ শতাংশ লোক একমত পোষণ করেছিল। কিন্তু ফোনে স্বয়ংক্রিয় ম্যাসেজে সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে এ হার আরো কম।
আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে প্রযুক্তি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের দিক থেকে অ্যাপসের ওপর জনগণের আস্থারও অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গোপনীয়তার জায়গায় শুরু থেকেই অনেকে এটি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। পাশাপাশি এ অ্যাপ কেবল তারাই ব্যবহার করতে পারবে, যাদের স্মার্টফোন আছে। যুক্তরাজ্যেই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী লোকের ৬১ শতাংশের কাছে মোবাইল ইন্টারনেট ডিভাইস নেই। অর্থাৎ সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এ কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ থেকে কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না।
স্ক্রলডটইন