রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

গতি পেয়েছে করোনাভাইরাসের র‌্যাপিড টেস্ট


DhakaReport24.com || 2020-11-12 21:53:30
গতি পেয়েছে করোনাভাইরাসের র‌্যাপিড টেস্ট


সার্স-কোভ-২-এর র‌্যাপিড টেস্ট এখন কয়েক মিনিটের মধ্যে ফল প্রদান করতে পারে। যেখানে ক্লিনিক্যাল টেস্টে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় নিয়ে নেয়। ফলে সময়ের প্রয়োজনে র‌্যাপিড টেস্ট এখন বিস্তৃত আকার পেতে শুরু করেছে। এ টেস্টের ভিত্তি হচ্ছে নতুন-পুরনো বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ফরম্যাট।

অ্যান্টিজেনভিত্তিক টেস্ট মূলত ভাইরাল প্রোটিনকে শনাক্ত করে, পিসিআর টেস্ট পরীক্ষায় চিহ্নিত করা হয় ভাইরাল জিনোম উপাদান এবং নতুন সিআরআইএসপিআর ভিত্তিক ডায়াগনস্টিক টেস্টও ভাইরাল জিনোম শনাক্ত করে, কিন্তু আরো কম পদক্ষেপে।

র‌্যাপিড টেস্ট ব্যবহার করা সহজ: উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এগুলো প্রয়োগ করা যায়, যেমন কেয়ার হোম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি করা যায় সামান্য কিংবা কোনো ধরনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ছাড়াই। যার কোনো কোনোটা অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে আবার ঘরে ব্যবহারের জন্যও উপযোগী। সম্মিলিতভাবে এগুলো ল্যাবভিত্তিক পিসিআর ডায়াগনস্টিক টেস্টের সহায়ক হওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি এটি বিস্তৃত আকারে প্রয়োগ করা হয় তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকরভাবে এটি সংক্রমণ শনাক্ত করতে পারবে এবং বিস্তৃতির আগেই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

এ প্রয়োজন খুব জরুরিও বটে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে করোনাভাইরাসের নিশ্চিত কেসের সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি জায়গায় নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি বাদ দিলে ভাইরাসের বিস্তার সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অপ্রতুল টেস্ট ও ট্রেস সিস্টেম এবং সুরক্ষা নীতি মেনে চলার প্রতি অনীহা ভাইরাসকে আরো বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

দ্রুত ও সহজে ব্যবহার করা যায় এমন টেস্ট ভাইরাসের লাগাম টেনে ধরার ক্ষেত্রে সহায়ক। বিশেষ করে উচ্চঝুঁকিসম্পন্ন পরিস্থিতিতে, যেখানে প্রাদুর্ভাব খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে সেসব অঞ্চলে। শার্লক বায়োসায়েন্স এ বছরের শুরুতে ল্যাবভিত্তিক সিআরআইএসপিআর টেস্ট প্রয়োগের জন্য ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কর্তৃক জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রযুক্তিটি নার্সিং হোমের মতো জায়গাগুলোতে প্রসারিত হয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনক্স হেলথের সঙ্গে একজোট হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এ যৌথ উদ্যোগ শার্লকের সিআরআইএসপিআর টেস্টের সঙ্গে বিনক্সের বিশ্লেষণকে একত্র করে। শার্লকের পরীক্ষা একটি গাইড আরএনএ দ্বারা সার্স-কোভ-২ আরএনএ শনাক্ত করতে পারে।  ফলে ক্যাস১৩ এনজাইম সক্রিয় হয়, যা ইলেকট্রোকেমিক্যাল লেবেলের সঙ্গে যুক্ত রিপোর্টর সিকোয়েন্সকে বিভক্ত করে দেয়। এরপর লেবেলটি ইলেকট্রোডে জারণ করা হয়, যেখানে এটি পরিমাপযোগ্য প্রবাহ তৈরি করে। বিনক্সের প্রধান টেকনোলজি অফিসার আনা ডিক্সন বলেন, এটা বিস্ময়কর, প্রকৃত অর্থে আপনি খুব দ্রুত দুটি প্রযুক্তিকে একীভূত করতে পারেন।

সিআরআইএসপিআর-ভিত্তিক টেস্ট ঘরে বসে টেস্ট করার জন্য দারুণ প্রতিশ্রুতি দেখাচ্ছে। যদিও এটি এখনো বিকাশমান প্রযুক্তি। ভাইরাসের সিআরআইএসপিআর-ভিত্তিক স্বীকৃতি অনেক উচ্চমাত্রায় সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত। যা চিরায়ত র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিকের সঙ্গে যুক্ত অনেক অনিশ্চয়তাকে দূরীভূত করতে পারে। ম্যামোথ বায়োসায়েন্সেস সিআরআইএসপিআর ক্যাস১২ভিত্তিক টেস্টের বিকাশের কাজ করছে। তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে আছে লন্ডনভিত্তিক গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন।  কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ট্রেভর মার্টিন বলেন, যদিও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে হোম টেস্ট, কিন্তু তারা প্রাথমিকভাবে ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার উপযোগী টেস্ট নিয়ে কাজ করছে। শার্লক বায়োসায়েন্সেস ঘরে বসে ব্যবহারের জন্য এবং কম সংস্থানসম্পন্ন সেটিংয়ের জন্য একটি পেপারভিত্তিক সিআরআইএসপিআর টেস্ট চালিয়ে যাচ্ছে। 

‘স্টপ’ নামে পরিচিত শার্লকের পরীক্ষার একটি দ্রুততম সংস্করণ সম্প্রতি তাদের আরো তিনটি সহপ্রতিষ্ঠাতা দ্বারা সামনে এসেছে। পরীক্ষাটি আইসোথার্মাল লোপ-মেডিয়েটেড অ্যাম্পলিফিকেশন (এলএএমপি), অ্যালিসাইক্লোবাসিলস অ্যাসিডিফিলস থেকে একটি থার্মোস্ট্যাবল ক্যাস১২ এনজাইম (উচ্চ তাপমাত্রায় এলএমপি প্রশস্তকরণ পদক্ষেপ সহ্য করতে সক্ষম) এবং চুম্বকীয় দানার নমুনা শুদ্ধীকরণ প্রক্রিয়াকে একত্র করে। ‘স্টপ’ ৯৩.১ শতাংশ সংবেদনশীলতা এবং ৯৮.৫ শতাংশ নির্দিষ্টতা প্রদর্শন করে। আগামী বছরই এটি বাজারে আনার পরিকল্পনা চলছে।

এবার নোবেল পাওয়া জেনিফার ডৌডনা এবং তার সহযোগী ডেনিয়েল ফ্লেচার ও মেলানি অটও একত্র হয়ে একটি সিআরআইএসপিআর-ভিত্তিক টেস্ট প্রকাশ করেছেন। তাদের টেস্টের ফল স্মার্টফোনেই দেখা যেতে পারে। এ টেস্ট নিউক্লিক পরিবর্ধনের প্রয়োজনীয়তাকে এড়িয়ে যায়, যা অন্যান্য সিআরআইএসপিআর-ভিত্তিক টেস্টে এখনো প্রয়োজন।

অট বলেন, আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সার্স-কোভ-২-এর দুটি গাইড নিয়ে আমরা ডায়াগনস্টিক পরিসীমায় চলে এসেছি, যা কিনা গ্রহণযোগ্য ছিল—পিসিআরের একই পরিসীমায় নয় কিন্তু এমন একটি পরিসীমায় যেখান থেকে আমরা কাজ শুরু করতে পারি।

এ টেস্ট ৩০ মিনিটের কম সময়ে প্রতি মাইক্রোলিটারে ১০০টি ভাইরাল জিনোম শনাক্ত করতে পারে। নিউক্লিক এসিড পরিবর্ধনের ধাপকে এটি সরিয়ে দেয়, যা একে অনুমতি দেয় একই সঙ্গে গুণগত ও পরিমাণগত ফল প্রদান করতে।

এ দল টেস্টে আরো একটি অভিনব ধাপকে পরিচিত করায়: পরীক্ষায় উৎপাদিত ফ্লুরোসেন্সকে পরিমাপের জন্য তারা আধুনিক স্মার্টফোনগুলোর উচ্চমানসম্পন্ন অপটিকস ব্যবহার করবে। এ দলের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের শুরুতেই এটির জরুরি অনুমোদন নিশ্চিত করা।

সার্স-কোভ-২ জিনোমের বিভিন্ন অঞ্চল শনাক্তকারী পিসিআর টেস্ট এখন পর্যন্ত ভাইরাসকে ট্রেস করার ব্যাপারে আধিপত্য বিস্তার করছে। এ পরীক্ষা উচ্চমাত্রায় সঠিক ও স্কেলেবল। কিন্তু এগুলো কেন্দ্রীভূত ল্যাবে চালানো জরুরি। পাশাপাশি এর জন্য প্রশিক্ষিত  কর্মী ও থার্মোসাইক্লিং মেশিনও প্রয়োজন। দেশগুলোর যখন টেস্টিংয়ের পরিমাণ বাড়ানো উচিত তখন এটি মোটেই বাস্তবসম্মত না। এমনকি ধনী দেশগুলোতেও এ ধরনের পরিষেবা সামর্থ্যের দিক থেকে সক্ষমতা দেখাতে বাধা পায়। যার ফলে টেস্টের স্বল্পতা তৈরি হয় এবং ফল পেতে দেরি হয়, যা কিনা ইতিবাচক ফলের ক্ষেত্রে কন্টাক্ট ট্র্যাকিংকে জটিল করে তুলতে পারে।

নেচার জার্নাল থেকে সংক্ষেপে ভাষান্তরিত