রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

নাগালের বাইরে ওষুধ, হিমশিম খাচ্ছে সাধারন মানুষ


সদরুল আইন, নিজস্ব প্রতিনিধি
DhakaReport24.com || 2022-11-10 16:09:00
নাগালের বাইরে ওষুধ, হিমশিম খাচ্ছে সাধারন মানুষ

একদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি অন্যদিকে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের ওষুধের দাম। কাঁচামাল আমদানি ব্যয়বৃদ্ধি, ডলার বিনিময় মূল্য, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের দামসহ বিভিন্ন অজুহাতে বেড়েছে ওষুধের দাম।

জ্বর ও ব্যথার প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে গ্যাস, পেটের সমস্যা, হৃদরোগ ,পেসার, অ্যান্টিবায়োটিক, রক্তস্বল্পতা ,ত্বকের ওষুধ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। 

আর বিদেশি ওষুধের দাম একেবারেই নাগালের বাইরে। ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই নিয়মিত নজরদারি। আমদানিকৃত ওষুধের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ১১৭টি ওষুধ সরকার মূল্য নির্ধারণ করে। বাকি প্রায় ১৫শ কোম্পানির ৩৭ থেকে ৪২ হাজার ব্যান্ডর ওষুধ রয়েছে। এসব ওষুধের দাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারক নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর নির্বিকার। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে সব ওষুধের দাম নির্ধারণ করে সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মও এমটিই নির্দেশ করে। দেশের ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতিতেও তা ছিল। কিন্তু, ১৯৯৪ সালে ওষুধ কোম্পানির দাবির মুখে বলা হলো, ১৭ শতাংশ ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করবে। বাকিটা নির্ধারণ করবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। এটিকে বলা হলো ইন্ডিকেটিভ প্রাইস।

ওষুধ শিল্প সংশ্লিষ্টরা সম্প্রতি ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বলছেন, ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহূত কাঁচামালের দাম বেড়েছে। প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়, জ্বালানি তেলের দাম, ডলারের বিনিময় মূল্য ও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এলসি খুলতে বেশি খরচ হচ্ছে।

ওষুধের ক্রয়ে উচ্চমূল্য জোগাড়ে ব্যর্থ হয়ে অনেকে সাত দিনের ওষুধ চার দিন কিনছেন। কেউ কেউ আবার বেশি জরুরি ওষুধ কিনলেও প্রেসক্রিপশনের বাকিগুলো খাওয়া ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ নিরাময়ের পূর্বশর্ত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ সেবন করতে হবে। কিন্তু অর্থনৈতিক সঙ্কটে ওষুধ সেবন ছেড়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদে শারিরীক জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আগামীতে জনস্বাস্থ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ ঠিকমতো ওষুধ কিনে খাচ্ছে না। এটি আশঙ্কার একটি বিষয়। 

কারণ সঠিক পরিমাণে ও পর্যাপ্ত সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করলে ব্যাক্টেরিয়াগুলো পরোপুরি ধ্বংস না হয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন এই ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিকের আর কোনো প্রভাব থাকে না। এ অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’

সম্প্রতি ২০টি জেনেরিকের ৫৩টি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যারাসিটামলের ১০টি ও মেট্রোনিডাজলের ছয়টি জেনেরিকের দাম বেড়েছে। এর বাইরে দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত প্রায় ৪২ হাজার ব্রান্ডের ওষুধের দাম নির্ধারণ করে প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারক।

২০১৫ সালে কয়েকটি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছিল। প্রায় সাত বছর পর আবারো বাড়ানো হয়েছে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম।

এর মধ্যে বিভিন্ন মাত্রার প্যারাসিটামলের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫০ থেকে শতভাগ। মাত্র ৪০ টাকার এমোক্সিসিলিনের দাম করা হয়েছে ৭০ টাকা, ২৪ টাকার ইনজেকশন ৫৫ টাকা। ৯ টাকার নাকের ড্রপের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৮ টাকা। কোনো কোনো ওষুধের দাম ৯৯ থেকে ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি শাহজালাল বাচ্চু  বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষ ওষুধের দোকানে কম আসছে কি-না সেটি আন্দাজ করা যাচ্ছে না। তবে এ পরিস্থিতি সামনের দিকে অগ্রসর হলে ওষুধ কিনতে মানুষ হিমশিম খাবে। এর চেয়েও বড় সঙ্কট তৈরি হবে বৈদেশিক মূদ্রা বিনিময়ে সঙ্কটের (ডলার ক্রাইসিস) কারণে যদি ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিঘ্ন হয়।’

নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকা রোগীদের চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়েছে অ্যাকট্রেমা ইনজেকশন, যা পরিমাণের ভিত্তিতে ২১ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি করা হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। দেশের বাজারে বিদেশি ওষুধ অ্যাকট্রেমা দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হচ্ছে। এজাসিটি ইনজেকশন সাড়ে চার হাজার টাকা থেকে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার টাকায়।ফরজিকা ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, টেমিফ্লু তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, সানিলক এসপিএফ এক হাজার ৭৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।হামদর্দদের শিশুদের গ্যাস্ট্রিকের নল-নেহাল সিরাপ দুই মাস আগেও ৬০ টাকা ছিল, এখন ৭৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘শুধু ওষুধ নয়, সব জিনিসের দাম বেড়েছে। ওষুধের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারকদের লোকসান হচ্ছে।তাই তারা ওষুধের মূল্য নির্ধারণের আবেদন করেছিল। আমরা ১১৭ জেনেরিকের মধ্যে ২০ জেনেরিকের দাম পুনঃর্নির্ধারণ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারক আগের দামেও ওষুধ বিক্রি করছেন। আবার অনেকের উৎপাদন বন্ধের উপক্রম। তবে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের সুযোগ নেই। কেননা, আমাদের এই বাজারে এক জনের সাথ্যে অন্যের প্রতিযোগিতা রয়েছে। আমাদেরও মনিটরিং রয়েছে। কেউ নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে ওষুধ বিক্রয় করার অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম