ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি: প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে
DhakaReport24.com || 2019-10-15 12:37:30
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে উদ্বেগজনক হারে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে অনেকেই যথাযথ চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এর মূল কারণ, দেশে এ রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। বস্তুত ক্যান্সারের চিকিৎসা সারা বিশ্বেই ব্যয়বহুল।
এ রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে বিশ্বে নতুন করে ১ কোটি ৫১ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে ১ কোটিরও বেশি মানুষ এ রোগে মারা গেছে। এক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে খাদ্যনালি, ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার।
খাদ্যে ভেজাল রোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন না করা হলে এসব ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখা বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা না করালে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর নিরাময়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রযোজ্য তা হল, সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ অনেক সময় আক্রান্ত হওয়ার পরও রোগী বুঝতে পারেন না যে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত।
ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যয় কমানোর পদক্ষেপও নেয়া দরকার। কারণ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্যয়বহুল হলে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের পক্ষে এ সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।
ব্যয়বহুল হওয়ায় তৃতীয় বিশ্বের অনেক ক্যান্সার রোগী আধুনিক চিকিৎসা নিতে পারে না। জানা যায়, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোনো না কোনোভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশের সরকারি হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও এ সেবা পাওয়ার জন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামো না থাকায় মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে গিয়ে রোগীর অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে ওই অবস্থা থেকে তাকে সুস্থ করে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।
কাজেই দেশে স্বল্প খরচে ক্যান্সার চিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। জনবল ও অবকাঠামো সংকটের কারণে যাতে এ ধরনের রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হয় এটিও নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যে ভেজাল ও পরিবেশ দূষণসহ যেসব কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, সেসব ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।