সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

ন্যায়সংগতভাবে কভিড ভ্যাকসিন বিতরণের উপায়


DhakaReport24.com || 2020-10-02 22:27:00
ন্যায়সংগতভাবে কভিড ভ্যাকসিন বিতরণের উপায়



বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯-এর মারাত্মক উত্থানের সঙ্গে ভ্যাকসিন আবিষ্কারকরা মহামারীকে থামাতে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথে এগিয়ে গিয়েছেন। তবে এখন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং নীতিনির্ধারকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন—বিশ্বব্যাপী অধিক জনসংখ্যার জন্য সীমিতসংখ্যক ভ্যাকসিন কীভাবে বরাদ্দ করা যায়।

এ চ্যালেঞ্জ বেশকিছু প্রশ্নের উত্থাপন করেছে: যেমন কোন দেশ সবার আগে ভ্যাকসিন পাবে? একটি ভ্যাকসিন দ্বারা বাঁচানো জীবনের সংখ্যাকে নাকি অধিক পরিমাণ জীবনকাল বাঁচানোকে গুরুত্ব দেয়া হবে?

বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর মাঝে নৈতিকভাবে ভ্যাকসিন বিতরণের জন্য অনেকগুলো প্রস্তুাব এখন পর্যন্ত সামনে এসেছে। কিন্তু কীভাবে আমরা জানব যে কোনটি নীতিনির্ধারকদের প্রয়োগ করতে হবে? এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য বিদ্যমান কিছু প্রস্তাবকে খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বৈশ্বিকভাবে বিতরণের দায়িত্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে (কোভ্যাক্স), যা মূলত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, দ্য কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন এবং গাভির নেয়া উদ্যোগ। এটি দেশগুলোকে ভ্যাকসিন প্রার্থীদের বিস্তৃত পোর্টফোলিওকে সমর্থন করতে দেয় এবং প্রয়োজন অনুসারে বিতরণের সুযোগ দেয়। এ সংস্থা দেশগুলোকে জনসংখ্যার অনুপাতে ভ্যাকসিন দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রত্যেক দেশ নিজেদের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনেট করতে পারছে সে পর্যন্ত। কিন্তু গরিব দেশগুলোর ক্ষেত্রে তারা শুরুতে কেবল প্রয়োজনীয় কর্মীদের ভ্যাকসিন দেয়ার অনুমতি দেয়। এদিকে বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে এ উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থাকছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেকটি প্রস্তাবের লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা কর্মী, বয়স্ক এবং সবচেয়ে দুর্বল লোকদের অগ্রাধিকার দেয়া। এটি চাইছে কভিড-১৯-এর মৃত্যুকে হ্রাস করতে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা কর্মী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং কভিড-১৯-এর জন্য অতি সংবেদনশীল লোকদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিন প্রদান করতে।

আরেকটি উপায় হতে পারে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ফেয়ার প্রায়োরিটি মডেল’। যেখানে চেষ্টা করা হচ্ছে অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্যজনিত ফলাফলগুলো সীমায়িত করতে। এটি এথিসিস্ট জেকে ইমানুয়েলের নেতৃত্বে নেয়া একটি উদ্যোগ। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছেন, অন্তত দেশগুলো মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভ্যাকসিনের ন্যায্য বরাদ্দ সেসব দেশকে আগে দেয়া দরকার, যেখানে এটি অধিক জীবনকালকে রক্ষা করতে সক্ষম। এরপর অক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে, যা কিনা ভ্যাকসিন দ্বারা রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি দেখতে হবে ভ্যাকসিন দ্বারা দারিদ্র্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতিকে হ্রাস করার বিষয়টিও। এরপর সবশেষে ভ্যাকসিন বিতরণ করতে হবে সংক্রমণের হারকে যতটা সম্ভব হ্রাস করার জন্য।

ভ্যানডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির দেয়া প্রস্তাব বিবেচনা করে অবদান ও সক্ষমতা। গবেষকরা দেশগুলোকে কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিবেচনা করেন। যেখাানে ১. সেবা দেয়ার সক্ষমতা, ২. ভ্যাকসিন বিতরণের ক্ষমতা, ৩. তারা টেস্টের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে কিনা এবং নতুন হস্তক্ষেপ সামনে এনেছে কিনা এসব অন্তর্ভুক্ত। এখানে ভ্যাকসিন ছাড়াই যাদের সেবা দেয়ার অল্প ক্ষমতা রয়েছে, ভ্যাকসিন বিতরণের উচ্চ ক্ষমতা রয়েছে এবং যারা টেস্টের ক্ষেত্রে সহায়ক এবং নতুন হস্তক্ষেপ সামনে এসেছে তাদের স্কোর বেশি হবে এবং তারা প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

এ প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং প্রত্যেকটির কিছু আলাদা উপযোগিতা রয়েছে। তবে এটা গুরুত্বপূর্ণ যে প্রয়োজন অনুসারে বিতরণ করা। যদিও আমাদের সেই প্রয়োজনীয়তা আসলে কেমন তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। আমাদের চেষ্টা করা উচিত স্বাস্থ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিও কমানোর চেষ্টা করা এবং যাদের ক্ষমতা কম তাদের অগ্রাধিকার দেয়া।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর