রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

প্রতি পাঁচজন আক্রান্তের একজন লক্ষণহীন হতে পারেন


DhakaReport24.com || 2020-09-27 22:56:30
প্রতি পাঁচজন আক্রান্তের একজন লক্ষণহীন হতে পারেন



চারপাশে ঘুরে বেড়ানোদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন ‘নীরব’ বা লক্ষণহীন কভিড-১৯ আক্রান্ত হতে পারে বলে নতুন একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। থোরাক্স জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষাটির গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণহীন কভিড-১৯ আক্রান্তরা গুরুত্বপূর্ণ চলক হিসেবে কাজ করতে পারে।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের আসান মেডিকেল সেন্টারের সংক্রামক রোগ বিভাগের অধ্যাপক সুং-হ্যান কিম বলেছেন, এ অনুসন্ধানটি সাধারণ জনগণের মাস্ক ব্যবহারকে আরো সমর্থন করে। নার্সিং হোম ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলোতে লক্ষণহীন মানুষদের কভিড-১৯ পরীক্ষার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে কভিড-১৯-এর লক্ষণ না থাকলে পরীক্ষা করা হয় না। তবে কেয়ার হোমের বাসিন্দা ও কর্মীরা তাদের লক্ষণ না থাকলেও পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সম্প্রতি লক্ষণহীন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার বিষয়ে ইউটার্ন নিয়েছে। সংস্থাটি এখন কভিড-১৯ আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হওয়াদেরসহ লক্ষণহীন ও প্রাক-লক্ষণযুক্ত মানুষদের পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

নতুন গবেষণাটিতে দেখা গেছে, লক্ষণহীন করোনাভাইরাস আক্রান্তদের লক্ষণযুক্ত আক্রান্তদের মতোই ভাইরাল লোড রয়েছে। এটা পূর্ববর্তী গবেষণার ফলাফলকে প্রতিধ্বনিত করেছে। ভাইরাল লোড বলতে বোঝায় ব্যক্তির শরীরে থাকা মোট ভাইরাসের পরিমাণ। তত্ত্ব অনুযায়ী, যার ভাইরাল লোড যত বেশি হবে, সে তত বেশি সংক্রামক হতে পারে।

গবেষকরা মহামারীর প্রথম দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ডেইগু শহরের একটি বড় ক্লাস্টার প্রাদুর্ভাবের দিকে নজর দিয়েছিলেন। ক্লাস্টারটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকারীদের সন্ধান করা হয়েছিল এবং কভিড-১৯ আক্রান্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাদের লক্ষণহীন থেকে শুরু করে মারাত্মক লক্ষণযুক্ত র্যাংকিং করা হয়েছিল।

হালকা ও লক্ষণহীন মানুষদের আইসোলেশন ও পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের ডেডিকেটেড কেয়ার সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এ গবেষণায় জড়িত ২১৩ জন অংশগ্রহণকারীকে এ ধরনের একটি সুবিধার আওতায় আনা হয়েছিল। জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, পেশি ব্যথা, অবসাদ, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, স্বাদ ও ঘ্রাণের ক্ষতি, গিলতে অসুবিধা, কাশি, কফ, রক্ত কাশি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্ষুধামান্দ্য, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো লক্ষণগুলোর একটিও না থাকলে তাদের লক্ষণহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২১৩ জনের মধ্যে ৪১ জন (১৯ শতাংশ) লক্ষণহীন ছিল। তাদের মধ্যে ৩৯ জনের (৯৫ শতাংশ) গড়ে ১৩ দিন পর ফলোআপ পরীক্ষা করা হয়েছে। হালকা লক্ষণযুক্ত ১৭২ জন রোগীর মধ্যে ১৪৪ জন (৮৪ শতাংশ) ফলোআপ পরীক্ষা করিয়েছে। ফলোআপ পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লক্ষণহীন কভিড-১৯ আক্রান্তদের লক্ষণগুলো তখন প্রকাশ হয় না, যার অর্থ তারা প্রাক-লক্ষণযুক্ত ছিল। পরীক্ষায় হালকা লক্ষণযুক্ত, লক্ষণহীন ও লক্ষণযুক্ত রোগীদের মধ্যে এ রকম ভাইরাল লোড পাওয়া গেছে।

যদিও আমরা ঠিক জানি না যে কতজন মানুষ লক্ষণহীন হয়ে থাকে। আমরা কেবল ধারণা করতে পারি যে সংখ্যাটা ২০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে হতে পারে।

হাফপোস্ট