রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

মেডিকেল গবেষণায় চীনা সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা


DhakaReport24.com || 2020-09-14 22:16:45
মেডিকেল গবেষণায় চীনা সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা



বিশ্বের বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনী চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ২০১৫ সাল থেকে বিজ্ঞানীদের নিয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এ খাতে বিনিয়োগ করেছে সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করার কৌশল হিসেবে। এখন নভেল করোনাভাইরাস মহামারী মেডিকেল গবেষণায় পিএলএর বর্ধনশীল দক্ষতাকে সামনে এনেছে, যেখানে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও অন্তর্ভুক্ত আছে। সীমিত পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাওয়া এটিই বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন।

বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মেডিকেল গবেষক মেজর জেনারেল চেন ওইয়ি, ভ্যাকসিন আবিষ্কারক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তিয়ানজেনভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ক্যানসিনোও অন্তর্ভুক্ত। জুলাইয়ে এ গোষ্ঠীটি বিশ্বের প্রথম গবেষণা দলের একটি হিসেবে ফলাফল প্রকাশ করেছে পিয়ার-রিভিউড জার্নালে, যা দেখিয়েছে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটি সুরক্ষিত এবং ইমিউন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে সক্ষম।

এর মাঝে চীনা সরকার ভ্যাকসিনটিকে অনুমোদন দিয়েছে, যার ভিত্তি হচ্ছে সাধারণ সর্দিকাশির অ্যাডেনোভাইরাস এবং যাকে ডাকা হয় এডি৫-এনকোভ নামে। বড় আকারে কার্যকারিতা পরীক্ষার আগে সামরিক বাহিনীতে এটি সীমিত আকারে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ওইয়ি এবং তার দল এখন পর্যন্ত শুরুতে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা সামরিক বাহিনীর হাজারো সদস্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অবদান রাখার পাশাপাশি পিএলএ চীনের মহামারী নিয়ন্ত্রণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তারা বেশ কয়েকটি দেশে মহামারীর প্রতিক্রিয়া জানানোর সহায়তা পাঠিয়েছে এবং দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে শক্ত করতে ভ্যাকসিনকে কাজে লাগাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য সামরিক বাহিনী ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করেছে এবং মেডিকেল গবেষণা সম্পন্ন করেছে। কিন্তু পিএলএর নিখুঁত আকার ও যে গতিতে পুনর্গঠিত হচ্ছে তা এর বৈজ্ঞানিক রূপান্তরকে লক্ষণীয় করে তুলেছে। তাছাড়া এটি কারো কারো জন্য উদ্বেগের কারণ বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, বিশেষত চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে।

বিজ্ঞানকে অগ্রাধিকার

চীনা সামরিক বাহিনীর কৌশল বিশ্লেষক এলসা কানিয়া বলেন, ২০১৫ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন, যা বিজ্ঞান এবং অভিনবত্বকে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের মূল চাবিকাঠিতে পরিণত করে। 

পিএলএর প্রচলিত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক, সাইবার ও মহাকাশ যুদ্ধ শাখাও প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০১৬ সালে সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কমিশন, যা কিনা সিদ্ধান্ত নেয় কোন গবেষণাকে অর্থায়ন করা হবে, তা নতুনভাবে গঠন করা সামরিক বিভাগের একটিতে পরিণত হয়। এ ঘটনা চীনের সামরিক বাহিনীকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে।

এ পুনর্গঠন একাডেমি অব মিলিটারি মেডিকেল সায়েন্সকেও নিয়ে এসেছে, যা কিনা এডি৫-এনকোভ ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে—একাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সের অধীনে।

বেসামরিক কর্মী নিয়োগ বিশ্লেষক অ্যাডাম নি বলেন, সংস্কারের আগে পিএলএ বিজ্ঞানীদের অভ্যন্তরীণভাবে বা সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নিয়োগ করেছিল। অংশত এর কারণ হচ্ছে, বেসামরিক বিজ্ঞানীদের কাছে সামরিক ক্ষেত্রে গবেষণা করা আকর্ষণীয় ব্যাপার ছিল না। সামরিক সদস্যদের অবশ্যই ফিটনেস বিষয়ক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হতো এবং নাগরিক সংস্থাগুলোর তুলনায় কাজের পরিবেশ কম নমনীয় ছিল।

কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে পিএলএ অনেক বেশি বেসামরিক-প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের নিয়োগ করার ফলে গবেষণার পদগুলো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং বিশেষত চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

এদিকে মহামারীর কারণে চীন সুযোগ পায় সামরিক বিজ্ঞানীদের অর্জনকে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ পায়। কেবল ভ্যাকসিনের প্রকল্পেই নয়, রোগীদের সেবাদান, প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ এবং উহানে চিকিৎসা সরঞ্জামের বিতরণ তদারকির ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

নেচার থেকে সংক্ষেপে অনূদিত