বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88
**সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ**

>> আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

>> ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন চান ভোটাররা : ভ্যান্স

>> ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু

>> ইয়েমেনে সৌদির ব্যাপক হামলা, নিহত ২০

>> জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার ইকবাল সোবহান

>> জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত

>> মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

>> একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

>> প্রমাণ মিলেছে যৌন হয়রানির রিপোর্ট কখনই প্রকাশ করবে না বিসিবি

>> মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

মানিকগঞ্জে  হঠাৎ ছোঁয়াচে ‘চোখ উঠার অস্বস্তিতে জেলাবাসী 


DhakaReport24.com || 2022-09-24 12:16:45
মানিকগঞ্জে  হঠাৎ ছোঁয়াচে ‘চোখ উঠার অস্বস্তিতে জেলাবাসী 

মানিকগঞ্জে হঠাৎ করেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা। ছোঁয়াচে হওয়ায় গড়ে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে রোগে। চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি বোধ করলে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এতে আক্রান্ত বাড়ছে। আক্রান্তের হার বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এ রোগে ব্যবহৃত আই ড্রপ ও ওষুধের।

এ রোগ হলে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতার অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা।চোখ ওঠলে কখনো কখনো এক চোখে অথবা দুই চোখেই জ্বালা করে এবং লাল হয়ে চোখ ফুলে যায়। চোখ জ্বলা, চুলকানি, খচখচে ভাব থাকা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে বার বার সাদা ময়লা আসা, কিছু ক্ষেত্রে চোখে তীব্র ব্যথা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। .

তবে এ সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই বেশি পরিচিত। রোগটি ছোঁয়াচে ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
চোখের একেবারে বাইরের স্বচ্ছ অংশটির ডাক্তারি নাম ‘কনজাংকটিভা’। ভাইরাসের সংক্রমণে সেখানে তৈরি হয় প্রদাহ, ফুলে যায় চোখের ছোট ছোট রক্তনালি। ফুলে থাকা রক্তনালিগুলোর কারণেই চোখের রং লালচে হয়ে যায়। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, মানিকগঞ্জে বেশিরভাগ ঘরেই এখন চোখ ওঠা রোগী। মানিকগঞ্জ সদর বা চক্ষু হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। রোগী বাড়ায় দেখা দিয়েছে চোখের ড্রপের সংকট। আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ সেরে যায়। তবে জটিল রূপ ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

কনজাংটিভাইটিস রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার্য বস্তু যেমন রুমাল, তোয়ালে, বালিশ, টিস্যু অন্যরা ব্যবহার করলে অন্যরাও এতে আক্রান্ত হয়। এছাড়া কনজাংটিভাইটিসের জন্য দায়ী ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশে যারা থাকে, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চোখ ওঠা ছোঁয়াচে রোগ। বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে, তবে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় বার বার হাত চোখে দিলে। হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। চোখের পানি সাবধানে টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহার করা সেই টিস্যু সাবধানে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যাতে করে রোগ না ছড়ায়।

চোখ ঘষা বা চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগীর ব্যবহার করা সামগ্রী অন্যদের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এক চোখে সমস্যা দেখা দিলে অন্য চোখকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে হবে। সমস্যা এক সপ্তাহের মধ্যে না সারলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মানিকগঞ্জ বাসষ্টান্ড থেকে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পাশে মানরা গ্রামে নিজস্ব ভবনে হাসপাতাল নির্মাণ করে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দৃষ্টি সেবা নেওয়ার জন্য রোগীরা এই হাসপাতালে আসেন। বর্তমানে এই হাসপাতালটিতে প্রতি মাসে দুইশ থেকে তিনশ চক্ষুরোগীর বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালটিতে তিনজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ৫৬ জন জনবল দ্বারা উন্নতমানের চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগী গ্রামের কিসমত আলী বলেন, এমপি মমতাজ যদি মানিকগঞ্জে এমন চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা না করতেন, তাহলে আমাদের মত সাধারণ জনগনের ঢাকায় গিয়ে চোখের চিকিৎসা নিতে হতো এবং আমাদের খরচের পরিমাণ বেশী ও হয়রানীর শিকার হতে হতো।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকার গোলাপ সরকার বলেন, মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার এলাকার এক লোকের সহযোগীতায় মমতাজ চক্ষু হাসপাতালে বিনামুল্যে চোখের অপারেশন করে আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ যেন হাসপাতালের মালিককে দীর্ঘ দিন বাঁচিয়ে রাখে।

মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা কন্ঠ শিল্পী এম,পি মমতাজ বলেন, জনস্বার্থে জনসেবার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য চক্ষু চিকিৎসার হাসপাতালটি নির্মাণ করেছি। 

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ শহরের মমতাজ চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সী চোখ উঠা রোগী ড্রপের জন্য ভীড় করছেন। রোগীর সিরিয়াল হাসপাতালের সিঁড়ি পেরিয়ে বাহিরে এসে দাড়িয়েছে।

কলেজ ছাত্র সুমন জানান, চোখ উঠা নিয়েই ক্লাসে যাচ্ছেন তিনি। ফার্মেসি থেকে চোখের ড্রপ নিয়েছেন। বাইরে বের হওয়ার সময় কালো রোদ চশমা ব্যবহার করছেন। তিনি আরও জানান, পরিবারের কয়েক জনের এ সমস্যা হয়েছে। চার বা পাঁচ দিনের মধ্যে সেরেও উঠেছে। কোন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়নি।

মানিকগঞ্জ  বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মোঃ আজাদ হোসেন জানান, গত দশ বা পনের দিনের চোখের ড্রপ কিনতে আসা রোগীর সংখ্যা অনেক। বেশিরভাগ লোকই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া চোখের ড্রপের জন্য আসেন।

মানিকগঞ্জ সদর  হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সামনে রোগীদের জটলা কমছেই না। রোগীদের অনেকেই চোখে কালো চশমা পরা। হঠাৎ করেই কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা এ রোগে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধুমাত্র এ হাসপতালের বহির্বিভাগ থেকেই গড়ে প্রতিদিন সেবা নিচ্ছে অর্ধশতাধিকের বেশি রোগী। গত এক সপ্তাহে হাজারের বেশি কনজাংটিভাইটিস আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত পরিবারের অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগই একই পরিবারের সদস্য।

উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে চোখের ড্রপের চাহিদা বেড়েছে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই চোখের ড্রপ ও এন্টি হিস্টামিন ওষুধ সেবন করছেন। এসব ওষুধ খেয়ে দুই তিন দিনের মধ্যে অনেকেই ভালো হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে চোখ উঠা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের প্রাত্যহিক কাজ করে যাচ্ছেন। মেলামেশা করছেন সবার সঙ্গেই। 

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমজার/আরএএম