৭০ থেকে ৮০% রক্তের উচ্চচাপের রোগীর অতিরিক্ত ওজনেরও সমস্যা রয়েছে। খাদ্যাভ্যাসের আমূল পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে উপকার বয়ে আনতে পারে
শাকসবজি ও ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী জেনেও অনেকে সে সব থেকে দূরে থাকেন।অথচ উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে বিট, তরমুজ ও রসুনকে ওষুধ হিসেবে প্রয়োগ করছেন বিজ্ঞানীরা।
রসুন, বিট নাকি তরমুজ? বিশেষ ধরনের কোনো খাদ্য কি রক্তচাপ কমাতে পারে? চিকিৎসাবিদ্যার তথ্যভাণ্ডারে এ বিষয়ে অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার দৃষ্টান্ত রয়েছে।অনেক গবেষণায় রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাদ্যের প্রভাব খতিয়ে দেখা হয়েছে।
বিটের রস নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীর।প্রথমে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নথিভুক্ত যেমন বডি ফ্যাট, রক্তচাপের ঊর্দ্ধ ও নিম্নসীমা ইত্যাদি।
বিটের রস গবেষকদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়। বিটের মধ্যে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নাইট্রেট অর্থাৎ এনওথ্রি রয়েছে, যা রক্তচাপের উপর প্রভাব রাখতে পারে। ঠিক এই পদার্থই বিটের রসের দ্বিতীয় এক নমুনা থেকে সরিয়ে নিয়ে সেই রসকে প্লাসিবো হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল।
৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিট, তরমুজ ও রসুন নিয়ে এমন পরীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রতিবার একই ফল পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, তিনটি খাদ্যই সত্যি রক্তচাপ কমাতে পারে। কিন্তু এমন আশ্চর্যজনক প্রভাবের কথা বেশি মানুষ জানে না।
রক্তচাপ কমাতে পারে, এমন খাদ্য ওষুধের বিকল্প হতে পারে কি-না, জার্মান অধ্যাপক আখিম বুব সে বিষয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি বলেন, “খাদ্যকেই চিকিৎসার হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করা অবশ্যই অসাধারণ। অর্থাৎ, আপনি এটাকে খাদ্য থেরাপি বলতে পারেন। সেটা সত্যি কাজ করে। অবশ্যই ওষুধের মতো মাত্রায় সেটা সম্ভব নয়। বরং ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হয়। এমন একাধিক ছোট পদক্ষেপ একসঙ্গে করলে একটা বড় পদক্ষেপের আকার নিতে পারে।”
কিন্তু বিট ঠিক কীভাবে খাওয়া উচিত? কারণ বিটের মধ্যের নাইট্রেটই তো আসলে উপকারের উৎস। তাহলে কি নির্যাসই সবচেয়ে সহজ সমাধানসূত্র? অধ্যাপক বুবের মতে, “বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদার্থের বদলে গোটা খাদ্য খাওয়াই উচিত। কারণ খাদ্যের জটিল গঠনের মধ্যে আরও অনেক উপকারী উপাদান থাকে, যা শরীরকে বাড়তি শক্তি দেয়।”
তিনি জানান, পরীক্ষার আওতায় প্রতিদিন গোটা একটা তরমুজ, বেশ কয়েকটি রসুনের কোয়া অথবা অর্ধেক লিটার বিটের রস খাইয়ে সত্যি রক্তচাপ কমানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত এমন পরিমাণ শাকসবজি বা ফলমূল খাওয়া কি সত্যি সম্ভব? আখিম বুব বলেন, “আমার পক্ষে প্রতিদিন এক, দুই বা তিন লিটার বিটের রস খাওয়া সম্ভব নয়। কাউকে সেটা করতেও বলতে পারি না। তার থেকে উদ্ভিদজাত খাদ্যের বৈচিত্র্য গ্রহণ করা অনেক ভালো। এভাবে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত। এর মাধ্যমে নিজের ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় আনতে পারলে উচ্চ রক্তচাপের কারণও দূর করা যাবে।”
তিনি জানান, ৭০ থেকে ৮০% রক্তের উচ্চচাপের রোগীর অতিরিক্ত ওজনেরও সমস্যা রয়েছে। খাদ্যাভ্যাসের আমূল পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে উপকার বয়ে আনতে পারে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএম/আরএএম