সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে দেশের ২১ শতাংশ মানুষ


DhakaReport24.com || 2022-04-09 18:09:00
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে দেশের ২১ শতাংশ মানুষ

দেশের ২১ শতাংশ মানুষ উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকিতে রয়েছেন। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে আজ শনিবার (৯ এপ্রিল) এ কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। 

ভার্চুয়ালি এই ওয়েবিনারে অংশ নেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. রুহুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের। 

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শামীম জোয়াদ্দার। 

তিনি বলেন, দেশে প্রতি পাঁচজনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন। আর ২১ শতাংশ জনগোষ্ঠী উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই রোগ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে।

তবে অধিকাংশ মানুষ ১০-১৫ গ্রামের বেশি লবণ খাচ্ছে। নিজ বাড়ি বা বাইরের খাবারের মাধ্যমে শরীরে ঢুকছে এই মাত্রাতিরিক্ত লবণ। ফলে বাড়ছে উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি। এ জন্য অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন আনতে হবে। এটি করা হলে উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে আসবে। 

প্রবন্ধে বলা হয়, দৈনন্দিন খাদ্যে অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার, অতিরিক্ত ওজনসহ নানা অসচেতনতায় দেশে বেড়েই চলেছে উচ্চরক্তচাপের রোগী। এমনকি চলমান করোনা মহামারীতে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই উচ্চরক্তচাপ ছিল। বর্তমানে দেশের ৫ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক এই রোগে ভুগছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন ২১ শতাংশ মানুষ। তবে এসব রোগীর ৫০ শতাংশের বেশিই জানেন না তাঁদের এই রোগ রয়েছে। 

বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটিরও বেশি মানুষ উচ্চরক্তচাপের কারণে মারা যায়, যা সব সংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর চেয়েও বেশি। তবে উচ্চরক্তচাপ থাকা ৫০ শতাংশের বেশিই রোগী জানেন না তাঁদের এই রোগ রয়েছে। এতে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। 

প্রজ্ঞার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার বলেন, আগে শুধু এই রোগ বয়স্ক মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হলেও, সম্প্রতি শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি ১৫ বছরের এক কিশোর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য এসেছে। তাই এখন থেকে এটি প্রতিরোধে জোর দিতে হবে। তাই ১৮ বছর বয়সীদের প্রতিনিয়ত রক্তচাপ মাপতে হবে। ছয় মাস কিংবা বছরে একবার মাপতে হবে। 

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, রোগী শনাক্তে প্রথমে স্ক্রিনিং এবং শনাক্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আর যাদের নেই, কী ধরনের জীবনাচার করলে এটি থেকে রেহাই মিলবে, সে বিষয়ে সচেতন করতে হবে। 

বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ সময় উচ্চরক্তচাপের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকে না। অর্থাৎ উচ্চরক্তচাপে ভোগা অনেক রোগী জানেই না যে, তার উচ্চরক্তচাপ রয়েছে। এ জন্য উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সকালের দিকে মাথাব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত ছন্দ, দৃষ্টিতে পরিবর্তন এবং কানে গুঞ্জন অনুভূতি প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অত্যধিক উচ্চরক্তচাপ ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, বিভ্রান্তি, উদ্বেগ, বুকে ব্যথা এবং পেশি কম্পনের কারণ হতে পারে। 

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এমএইচ/আরএএম