মলাশয় বা কোলন ক্যান্সার দেরিতে শনাক্ত হয় বলে এতে আক্রান্ত অর্ধেক রোগীকেই বাঁচানো সম্ভব হয় না। লক্ষণ না থাকলেও একটা বয়সের পর সবাইকেই কোলন ক্যান্সারের টেস্টটা করানো উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় এই ক্যান্সার ধরা পড়লে ৮০ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলোরেক্টাল বা কোলন ক্যান্সার বা মলাশয়ের ক্যান্সারে বাংলাদেশে মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয়। উন্নত বিশ্বে এই ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ২০০৮ সালে বিশ্বের ১২ লাখের বেশি মানুষের মলাশয়ের ক্যান্সার নিশ্চিত করা হয়-যাদের অর্ধেকই মারা যায় এই রোগে। বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ।
শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সায়েদা রহিম বলেন, পঞ্চাশ বছরের ঊর্ধ্বের ব্যক্তিরা কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া যাদের পরিবারের মধ্যে কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে তারা ঝুঁকিতে থাকে। স্থুলতা কিন্তু কোলন ক্যান্সারের জন্য রিস্ক ফ্যাক্টর। রেড মিট, অ্যালকোহল এবং ধুমপানের কারণেও কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
মলাশয়ের ক্যান্সার নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক তৌহিদুল করিম মজুমদার বলেন, কোন লক্ষণ না থাকলেও একটা বয়সের পর সবাইকেই কিন্তু কোলন ক্যান্সারের টেস্টটা করানো উচিত। এই বয়সটা উন্নত বিশ্বে ৪৫ হলেও, আমাদের দেশে আরও অনেক কম বয়সের মানুষের মধ্যেও এই রোগ দেখা দিচ্ছে।
শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, এই ক্যান্সারটা সাধারণত পলি নামক একটা টিউমারের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কোলনাসপি করলেই কিন্তু এই টিউমার সহজেই শনাক্ত করা যায়। কোলনাসপির মাধ্যমেই এই টিউমার শরীর থেকে সরানো সম্ভব এবং ক্যান্সারের ঝুঁকিও প্রায় শূন্যতে নেমে যায়।
মলাশয়ের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রহমান বলেন, পায়খানার রাস্তা দিলে রক্ত গেলে আমাদের যেটা প্রচলিত সবাই মনে করে পাইলস হয়েছে। আমাদের এই ধারণা থেকে বের হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসএ/আরএএম