বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষ গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ- বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশের ০.৫ শতাংশ মানুষ এই রোগে ভূগছেন, যার ০.৪ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুরুতর মানসিক রোগ বাইপোলার ডিসঅর্ডার এর ওপর একটি গাইডলাইন এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা, অজ্ঞতা ও সামাজিক কুসংস্কারের কারণে প্রায় ৯২ শতাংশ জনগোষ্ঠী চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ‘গাইডলাইন ফর বাইপোলার ডিসঅর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি)। ফলে এই রোগ চিকিৎসা আরো ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির লজিস্টিক ও বৈজ্ঞানিক অংশীদার হিসেবে সাথে ছিল সানোফি।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিসটস (বিএপি) আরও চারটি মানসিক রোগের উপরে গাইডলাইন ইতিমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সেগুলো হল সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন, অ্যানজাইটি ডিসঅর্ডার এবং অসিডি।
গাইডলাইন সংক্রান্ত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস (বিএটি) মনে করে শুধুমাত্র মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না। এই বাইপোলার ডিসঅর্ডার রোগের ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে যাতে করে সাধারণ চিকিৎসকেরাও এই গাইডলাইনের সহায়তায় জেলা উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের রোগ নির্ণয়, নুন্যতম চিকিৎসা সেবা এবং রেফারেল পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ মুরশিদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস (বিএপি) এর সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. তারিকুল আলমসহ সংগঠনটির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম