রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬

২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬

২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ হয়নি: তদন্ত কমিটি


DhakaReport24.com || 2026-04-30
সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ হয়নি: তদন্ত কমিটি

জাতীয় সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে কমিটি জানিয়েছে, আলোচিত কেনাকাটায় কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা ‘হরিলুট’ সংঘটিত হয়নি। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কমিটির আহ্বায়ক ও হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি স্পিকারের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

পরবর্তীতে সংসদ ভবনের টানেলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংবাদে ৩টি লেন্সের দাম ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা দাবি করা হলেও নথিপত্র অনুযায়ী এর প্রকৃত মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এটিকে ‘মুদ্রণজনিত ভুল’ হতে পারে বলে কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন। এছাড়া তদন্ত চলাকালীন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি এবং প্রতিটি পণ্যে কার্যাদেশ অনুযায়ী নিকন ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো যথাযথভাবে পাওয়া গেছে। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়- পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে ভ্যাট, ট্যাক্স ও ঠিকাদারের যৌক্তিক মুনাফা যোগ করেই এই দাপ্তরিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কার্যাদেশে ক্যামেরার উৎপত্তিস্থল জাপান উল্লেখ থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে থাইল্যান্ডে তৈরি পণ্য। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তৎকালীন সচিব কানিজ মাওলার লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা হয়নি, যা একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি।

উল্লেখ্য, চব্বিশের ৫ আগস্টে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সংসদের গণসংযোগ শাখার সরঞ্জাম জরুরি ভিত্তিতে প্রতিস্থাপনের জন্যই এই ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক পণ্য কেনাকাটায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে ক্যামেরা ও ব্যাগ কেনা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংসদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। 

হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য করা হয় ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ এপ্রিল সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ শাখা-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম