রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

আয় কমেছে ৮১ শতাংশ, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৮৭ শতাংশ


নিজস্ব প্রতিবেদক
DhakaReport24.com || 2022-01-14 14:41:15
আয় কমেছে ৮১ শতাংশ, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৮৭ শতাংশ

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত বছর সরকারঘোষিত লকডাউনে পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দোকান শ্রমিকদের আয় কমেছে ৮১ শতাংশ। ওই সময় কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৮৭ শতাংশ এবং কর্মক্ষেত্র থেকে খাদ্য, অর্থ সহযোগিতা পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ শ্রমিক। সরকার থেকে এসব শ্রমিকের ১২ শতাংশ বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছেন।

করোনা মহামারিতে বেসরকারি খাতে নিয়োজিত পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দোকান শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, আয় ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বেশ প্রভাব পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলসের সেমিনার হলে সংস্থাটি এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিলসের উপ-পরিচালক (গবেষণা) মো. মনিরুল ইসলাম প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার ছয়টি অঞ্চলে ৪০০ শ্রমিকের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে।

বিলসের গবেষণায় দেখা যায়, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও দোকান এই তিন খাতে ৯৬ শতাংশই পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। আর নারী শ্রমিকের অধিকাংশই দোকানে কাজ করেন। শ্রমিকদের ৭০ শতাংশ বিবাহিত। শিশুশ্রমিক ৫ শতাংশ। এসব শ্রমিকের ১৩ শতাংশের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।

গবেষণায় জানানো হয়, করোনায় ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিকই লকডাউনের ফলে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৮৭ শতাংশ শ্রমিকের কর্মসংস্থান কমে গেছে। কর্মদিবস কমেছে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ। কর্মঘণ্টা কমেছে ৯২ শতাংশ শ্রমিকের। এছাড়া লকডাউন-পরবর্তী সময়ে তিন হাজার ৪৮৬ জন শ্রমিক কাজ ফিরে পেয়েছে। তবে এখনো ৭ শতাংশের বেশি শ্রমিক কাজ পায়নি।

গবেষক মনিরুল জানান, কোভিডের কারণে ৮৩ শতাংশ সেবাদানকারী ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসময় হয় তারা তাদের সেবা বা ব্যবসা বন্ধ করেছেন নয়তো ব্যবসার পরিসর কমিয়েছেন। ৯৫ শতাংশ বাস ও লেগুনা এবং ৮০ শতাংশ দোকান বন্ধ ছিল।

এই তিন ধরনের শ্রমিকদের ৫১ দশমিক ৫ শতাংশই ছিলেন চাকরি হারানোর চিন্তায়।

গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এসব শ্রমিকের ৩৬ শতাংশ করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন। তবে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে মাস্ক ব্যবহার কমেছে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং দোকান শ্রমিকদের ৭৯ শতাংশই কোনো শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত নন। এদের ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশই মনে করেন স্বাভাবিক সময়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো দরকার নেই।

বিলসের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন, বিলসের পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ ও নাজমা ইয়াসমীন।