প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনরায়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় গেলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। ভোটের অধিকার যারা কেড়ে নিয়েছিল জনগণ তাদের জবাব দিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত করে।
মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মাটি অনেক উর্বর। এখানে যেমন অনেক ভালো মানুষ জন্ম নিয়েছে তেমনি বেইমান পরগাছাও এদেশে জন্মেছে। তাদের ইচ্ছা ছিল এদেশ যেন উন্নতি করতে না পারে। এরা মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল। আমাদেরটা খেয়েপরে তারা বঙ্গবন্ধুর বুকে গুলি চালায়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষের জন্য যে মানুষটার বুক ভরা ভালোবাসা ছিল, যে মানুষগুলো আমাদের ঘরে বসে খেয়ে পরে গেল- তারা কীভাবে ওই বুকে গুলি চালায়?
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাহাত্তরে বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর থেকেই কিছু লোকের শুরু হলো নানা ধরনের সমালোচনা। এটা হলো না, ওটা হলো না। এই হচ্ছে না, সেই হচ্ছে না। একবার তারা ভেবে দেখলো না, এই দেশটা ছিল পরাধীন। দুইশ বছর ব্রিটিশদের গোলামি করেছে। তারপর ২৩ বছর পাকিস্তানিদের গোলামি করতে হয়েছে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ করতে হয়েছে। পাকিস্তানের একটি প্রদেশকে যিনি রাষ্ট্রে উন্নীত করেছেন, ধীরে ধীরে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয় যাচ্ছেন। কিন্তু তাকে সময় দেয়া হলো না। যারা সেই সময় এ রকম কলাম লিখেছেন, আন্দোলন বা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। তারা কী ভেবেছিল? কী করতে চাচ্ছিল তারা? সেটাই আমার প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর আজও পাইনি।
স্বাধীনতার পর পাকিস্তান কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ভুট্টো নিজের চামড়া বাঁচাতে এবং বাংলাদেশে আটকে পড়া ৯৬ হাজার পাকিস্তানিকে ফেরত নিতে এবং আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে ফিরে তিনি সবার আগে ফিরে যান দেশের মানুষের কাছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের দায়িত্ব নিয়ে পরিবর্তন শুরু করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি আদায় করে দেন। মানুষ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এগুলো হতো না।
শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তান আধা ঔপনিবেশিক আমলের যে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা তা পরিবর্তন করে বাংলাদেশের গ্রামের তৃণমূলের মানুষের হাতে ক্ষমতার অধিকার দিতে চেয়েছিলেন।জনগণকে প্রজাতন্ত্রের মালিক করতে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি দিয়ে সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্রীভূত না রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। যেন বাংলাদেশ কারও মুখাপেক্ষী না হয়। দেশের মানুষ যেন বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। যখনই তিনি ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ বিনির্মাণের পদক্ষেপ নেন তখনই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।