আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করলে বিদেশি বায়ারদের কাছে সে কারখানাকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকনেতারা।
বিজিএমইএ এর যে ডাটা বেজ আছে সেখানে শ্রমিকদের তথ্য- উপাত্ত দিতে বলেছে গার্মেন্টস মালিকরা।
আর এটাকেই গার্মেন্টস শ্রমিকনেতারা মনে করছেন এর মাধ্যমে মালিকরা শ্রমিকদের গণহারে কালো তালিকাভুক্ত করবেন। এর প্রতিবাদে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ তালিকার মাধ্যমে কোনো কারখানায় শ্রমিকদের যদি কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। তাহলে শ্রমিক নেতারা সে কারখানাকে বিভিন্ন বিদেশি বায়ারদের কাছে কালো তালিকা ভুক্ত করাবে।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ শ্রমিক হত্যা ও শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি এবং সম্প্রতি বিজিএমইএ এর পদক্ষেপ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইবিসির সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনীত করতে গার্মেন্টস সেক্টরের সর্বোচ্চ শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী জোট হিসেবে ইন্ডাট্রিজ বাংলাদেশ কাউন্সিল আইবিসির পক্ষ থেকে সর্ব সম্মতভাবে একজন সদস্যের নাম মনোনীত করে শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তারপরও আইবিসির মনোনীত সদস্যকে গ্রহণ না করে সরকার মালিকদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে বেআইনিভাবে মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনীত করেন বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনিকে।
তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ সার্কুলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ শ্রম আইনেরে ১৩(১) ধারা অপব্যবহার করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
এ সময় আইবিসির পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-
১। গণহারে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
২। সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং গ্রেপ্তার নেতা ও শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
৩। ১৩(১) ধারায় বন্ধ রাখা কারখানার শ্রমিকদেরকে পূর্ণ মজুরি প্রদান করতে হবে, এ জন্য কোনো শ্রমিকের মজুরি কম দেওয়া যাবে না।
৪ । বন্ধ কারখানা অবিলম্বে খুলে দিতে হবে।
৫। কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে না।
৬। যেসব শ্রমিক আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে এবং যেসব শ্রমিক নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে লস অব ইয়ার আনিং হিসাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আইবিসির সভাপতি আমিরুল হক আমিন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইবিসির কেন্দ্রীয় নেতা বাবুল আকতার, তৌহিদুর রহমান, সালাউদ্দিন স্বপন, জেডএম কামরুল আনাম, রুহুল আমিন, নুরুল ইসলাম, রাশেদুল আলম রাজু, চায়না রহমান, আবুল কালাম আজাদ, কামরুল হাসান, মো. শাহাদাত হোসেন ও কায়সারুন নবী রুবেল।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/এসপি/আরএএম