বন বিভাগের নানা দুর্নীতি তুলে ধরল টিআইবি
DhakaReport24.com || 2020-12-31 20:38:15
দেশের বন বিভাগের কর্মকর্তাদের পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতিতে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থের লেনদেন হয়। বনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অর্থ বণ্টনে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আত্মসাৎ হচ্ছে। আর বনভূমি ও আশপাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি বরাদ্দ এবং জবরদখল ঠেকাতে ভূমি অধিদপ্তর কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল বুধবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে গবেষণা প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, রামপালসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন প্রকল্পে এ পর্যন্ত এক লাখ ৬০ হাজার একরেরও বেশি বনভূমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ নিয়েছে। আর জবর দখল হয়ে যাওয়া প্রায় দুই লাখ সাড়ে ৮৭ হাজার একর বনের জমির খুব অল্পই উদ্ধার হয়েছে। এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকায় বন রক্ষায় বন বিভাগ তাদের যে ক্ষমতা আছে তাও প্রয়োগ করছে না। আর প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে শুধু প্রধান বন সংরক্ষক নিয়োগেই এক থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বনভূমি বেদখল, অবৈধভাবে বনভূমি বরাদ্দ কিংবা তার ব্যবহারের সঙ্গে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একাংশের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যোগসাজসে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকরণ করা হয়েছে। এখানে বাস্তবে রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা অন্যদিকে দেখলাম যে, অধিদপ্তরের নিয়োগ-পদোন্নতি ও বদলি এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার আর্থিক অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটি জর্জরিত।’
৯৩ বছরের পুরানো বন আইনের এখনো বিধিমালা না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে টিআইবি বলছে, নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও অগ্রগতি নেই। জানানো হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেই বন উজাড়ের খেসারত গুনতে হয়। এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ কর্মকর্তার কারণে বন সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বন উজাড় ও দখল এবং আত্মসাৎকেন্দ্রিক দুর্নীতির বিস্তার রোধে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বন অধিদপ্তর কর্তৃক পদক্ষেপ দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে যে প্রভাবশালীরাই জড়িত থাকেন।’
বনজসম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব নেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ও জনবলকাঠামো ঢেলে সাজানোসহ ১৫ দফা সুপারিশও করে টিআইবি।