ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যেই কলকাতায় শুরু হয়েছে তুমুল বৃষ্টি। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরো শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরই মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আজ সোমবার (৯ মে) দুপুরে নবান্নে জরুরি বৈঠক বসছে মুখ্যসচিব। কী কী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, বর্তমানে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ধারণ করেছে অশনি। দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি। ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার বেগে ক্রমশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বর্তমানে পুরী থেকে ৬৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে উত্তর অন্ধ্র-উড়িষ্যা উপকূলের অদূরে পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পূর্ব দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থানের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
ইতোমধ্যে সুন্দরবন, কাকদ্বীপের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বাংলা-উড়িষ্যা উপকূলের জেলেদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। যারা এই মুহূর্তে সমুদ্রে রয়েছেন, তাদেরও দ্রুত ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এটি যেকোনো মুহূর্তে গতি পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। যেখানেই আঘাত হানুক না কেন, এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলসহ বেশির ভাগ এলাকায় ১১ মে থেকে বৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার (৯ মে) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, চিন্তার কোনো কারণ নেই। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী যেভাবে ছিল এখনও সেভাবেই আছে আসানি। বরং এটি আগামীকাল থেকে আস্তে আস্তে দুর্বল হতে পারে। আজ পর্যন্ত এটা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আপাতত বাংলাদেশ শঙ্কামুক্ত থাকবে। তবে কোথাও কোথাও বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও বাতাস বয়ে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, এটি ভারতের উড়িষ্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে উপকূলে ধেয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এর গতি কমে যাবে। যার ফলে বাংলাদেশে এর সেভাবে প্রভাব পড়বে না বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের নদী বন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/আরএ/আরএএম