বাংলা ফন্ট

‘আমার সারা শরীরে হাতাহাতি করতে থাকে’

31-10-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ‘আমার সারা শরীরে হাতাহাতি করতে থাকে’
ঢাকা: ‘আমি তার টেবিলের বিপরীত পাশে বসা। তিনি উঠে এসে আমার জামার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেয়। হাত ঢুকিয়ে কি করে সেটি কি মুখ খুলে আমাকে বলতে হবে আপনাদের? উনি জোর করে টান দিয়ে আমাকে দাঁড় করায়, এরপর আমাকে সেই টেবিলের উপর জোর করে শুইয়ে আমার সারাশরীরে ইচ্ছে মত খুবই বাজেভাবে-নোংরাভাবে হাতাহাতি করতে থাকে। এমনকি মুখ চেপে ঠোঁটে... উনি যখন আমার সাথে দস্তা-দস্তি করতে থাকে, যখন আমার কাপড়ের নিচের অংশ খুলতে থাকেন এবং নিচের অংশে হাত দিতে থাকেন তখন আমি তখন একটা পর্যায়ে আমি চিন্তা করলাম -এখান থেকে কিভাবে বের হওয়া যায়।

আমি জানি চিৎকার করলেও কোনো লাভ হবে না, কেউ শুনবেই না। শুনলেও আমার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ সেখানে সবাই ওর স্টাফ ওর অফিস। আমাকে যদি তখন মেরেও ফেলতো কেউ জানতেও পারতো না। কারণ সে একজন সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী করে এতো ধনী হয়েছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজে যৌন হেনস্তার কথা এভাবেই বর্ণনা করছিলেন প্রাক্তন মিস আয়ারল্যান্ড মাকসুদা আখতার প্রিয়তি।

এই মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করা প্রিয়তি অভিযোগ করলেন,  বসুন্ধরা গ্রুপের পূর্বাঞ্চল পরিচালক (ল্যান্ড), রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক-এর কাছে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। আয়ারল্যান্ড থেকেই ফেসবুক পেজে লাইভে নিজের সঙ্গে ঘটমান সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন প্রিয়তি।

আলোচিত এই মডেল-অভিনেত্রী আরো বলেন, ‘ওই রকম মুহূর্তের ঘটনা বর্ণনা করার মত ভাষা কোনো মেয়ের থাকতে পারে? কোনো মেয়ে বলতে পারে যে, আমার এই ফিলিংসটা হয়েছিল। আমার ব্রেন কাজ করছিলো না। শুধু ভাবছিলাম যেন আমার সাথে রেপ না হয়। কেবল ভাবছিলাম কিভাবে আমি এখান থেকে সেভ হবো। তিনি যখন কাপড়ের ভেতর আমার নিচের অংশে হাত দিতে থাকে তখন আমি সিগনাল দিই যে, ‘‘আজকে না করলে হয় না? আমি একটা সময় নিয়ে আসি, অন্য সময় করি?’’  আমি হ্যাঁসূচক সিগনাল দিচ্ছিলাম যাতে আমার সাথে জোরাজুরি না করে।’

তিনি জানান, বছর তিনেক আগে রফিকুলের কোম্পানির একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর নিজের পারিশ্রমিক আনতে গিয়েছিলেন প্রিয়তি। সেই সময় রফিকুলের অফিসেই তাকে যৌন নিগ্রহ করা হয়। ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রিয়তি লিখেছেন, ২০১৫ সালের মে মাসে রফিকুলদের প্রোডাক্ট প্রমেক্স-এর বিজ্ঞাপনের পেমেন্ট আনতে গেলে (এই পেমেন্ট যদিও আমি পাইনি) তার সঙ্গে এমনি নোংরা আচরণ করা হয়। কিন্তু তিনি তখন রফিকুলের ক্ষমতার কাছে পুরোপুরি নিরুপায় ছিলেন।

প্রিয়তি বলেন, ‘আমি আতঙ্কে আছি। ওই ঘটনা শুধু নিগ্রহেই সীমাবদ্ধ ছিল না, মুখ খুললে আমাকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আয়ারল্যান্ডে এসে আমাকে খুন করা হবে বলা হয়েছিল।’ তার দাবি, ‘রফিকুল ইসলাম নামে ওই ব্যবসায়ী ফোনে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আয়ারল্যান্ড বেশি দূরে নয়, আমার জন্য দু’সেকেন্ডের ব্যাপার।’ প্রিয়তি তার পোস্টে সে কথা লিখেছেন, ‘আমার জীবনের যদি কোনো ক্ষতি হয় অর্থাৎ প্রাণহানী করার ঘটনা ঘটে, তাহলে রফিকুল ইসলাম দায়ী থাকবেন। কারণ তিনি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন তিন বছর আগেই, এমনকি আয়ারল্যান্ডে এসেও আমাকে মেরে ফেলা তার জন্য নাকি দুই পয়সার ব্যাপার।’

#মিটু ক্যাম্পেইন নিয়ে ভারতের উদাহরণ দিয়ে প্রিয়তি লিখেছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম সে দেশের নারীদের পাশে থাকলে অপরাধী যত ক্ষমতাশালী হোক যৌন হেনস্তার ব্যাপারে নারীরা মুখ খুলবে।

প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে দিয়ে এবার ‘#মিটু’ ঝড়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশেও। যে আন্দোলনটি হলিউডে শুরু হয়ে বলিউড ছাড়িয়ে এখন বাংলাদেশের মিডিয়া মুখি হয়েছে। রহস্য আর মোহেঘেরা মিডিয়ায় কার থলের বিড়াল কোন দিক দিয়ে বেরিয়ে পড়ে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ