বাংলা ফন্ট

আর না ফেরার শর্তে মঙ্গলে যাত্রা!

13-03-2014

আর না ফেরার শর্তে মঙ্গলে যাত্রা!
আপনি কি পারবেন সারাজীবন আপনার পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে বহু দূরে বহু বছর কাটিয়ে দিতে? কিংবা ফেরা যাবে না এমন পথে যাত্রা করতে? মঙ্গলগ্রহে যারা বসবাসে ইচ্ছুক তারা কিন্তু এসব মেনে নিয়েই আবেদন করেছেন।
মঙ্গলগ্রহে বসবাসের স্বপ্ন দেখে মানুষ। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ডাচ কোম্পানি ‘মার্স ওয়ান' মঙ্গলে বসতি স্থাপন করবে। তবে মঙ্গল যাত্রা হবে একমুখী। ফিরে আসার কোনো উপায় থাকবে না। জার্মান ফ্লাইট প্রশিক্ষক স্টেফেন গ্যুন্টার এমন যাত্রার জন্য আবেদন করেছেন।
তিনি বলেন, “মহাকাশ সবসময় আমাকে আকর্ষণ করেছে। আমি সমসময় মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ খুঁজেছি। এটা এখন বলে বোঝানো কিংবা হিসেব কষে দেখানো সম্ভব নয়। আগ্রহটা আমার ভেতরেই রয়েছে যা আমাকে মহাকাশের দিকে টানছে।”
দশ বছর পর মঙ্গল যাত্রা শুরু হবে – সারাজীবন ধরে যে যাত্রার স্বপ্ন দেখেছেন গ্যুন্টার। তিনি বলেন, “আমার সর্বনিম্ন লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর কক্ষপথ অবধি যাওয়া, আর লক্ষ্য ছিল চাঁদ। ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্যাপারটা এমনই ছিল। কিন্তু এখন আমার লক্ষ্য মঙ্গলে যাত্রা। আমি এই যাত্রার জন্য প্রস্তুত। আমি মনে করি এতে আমার জীবন পূর্ণতা পাবে।”
কারিগরি শিক্ষা, বিমান চালনার মার্কিন লাইসেন্স, মহাকাশ বিষয়ক অ্যাপ তৈরিসহ মহাকাশে যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়গুলি রপ্ত করেছেন গ্যুন্টার। অন্তত তিনি নিজে এমনটা মনে করেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নে শারীরিকভাবেও নিজেকে ফিট রাখছেন তিনি। ইতোমধ্যে ১৪ কেজি ওজন কমিয়েছেন। তবে প্রতিযোগিতা সহজ হবে না। কারণ, দু'লাখের বেশি মানুষ যে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন।
গ্যুন্টারের এই একমুখী মঙ্গল যাত্রায় শরিক হওয়ার আবেদনের কথা শুনে তাঁর স্ত্রী বিয়াটে ভিডেন প্রথমে কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি বলনে, ‘‘সে যখন প্রথম আমাকে জানিয়েছিল বা আমি বুঝেছিলাম যে, এটা একমুখী যাত্রা, অর্থাৎ মঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পর বা সেখানে পৌঁছানোর পর পৃথিবীতে আর ফিরে আসা যাবে না – তখন স্বাভাবিকভাবেই আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছি। কারণ আমরা পৃথিবীতে ভালো আছি, এখানে সবকিছু ঠিকভাবে চলছে। তা সত্ত্বেও সে কেনো একমুখী যাত্রার এই প্রকল্পে অংশ নেবে।''
বিয়াটের স্বামী অবশ্য এখনো মঙ্গল যাত্রার জন্য নির্বাচিত হননি। তবে তিনি মনে করেন, মঙ্গল থেকে ফিরে আসারও একটি উপায় বের করা উচিত। ‘মার্স ওয়ান' প্রকল্পে ফিরে আসার সুযোগ না থাকার সমালোচনা করেছেন রুপার্ট গ্যার্সারও। কোলনে অবস্থিতি ‘ইন্সটিটিউট অফ এরোস্পেস মেডিসিন'-এর পরিচালক তিনি।
রুপার্ট বলেন, ‘‘প্রথমত আমি মনে করি, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি একটি অবাস্তব প্রকল্প। দ্বিতীয়ত, আমার মতে, এটি একটি আত্মঘাতী মিশন। সবসময় একটি ছোট্ট বাংকারে আবদ্ধ পরিবেশে বসবাস সম্ভব নয়। অন্তত আমি মনে করি, এভাবে কয়েক বছর হয়ত থাকা যেতে পারে। কিন্তু সারা জীবন বাংকারে বসবাস অবাস্তব ব্যাপার। 

সর্বশেষ সংবাদ