বাংলা ফন্ট

জাতি পরিচয়ের গুরুত্ব

04-01-2018
রাজু আহমেদ

জাতি পরিচয়ের গুরুত্ব
আমরা সবাই মানুষ। বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের একটিই প্রজাতি টিকে আছে- হোমো সেপিয়ান। মানুষ কেন অন্য প্রাণীদের থেকে উন্নত ? কারণ আমাদের ভাষা আছে, সংস্কৃতি আছে। আবার এ গ্রহের এক এক অংশে হাজার হাজার বছর ধরে বাস করার ফলে, সেই নির্দিষ্ট আবহাওয়ায় নিজেদের অভিযোজিত করতে গিয়ে- ত্বকে নাকে চোখে চুলে এমন কী দেহের গড়নেও কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরী হয়েছে। যেমন, কোন জনগোষ্ঠির গায়ে রোদ বেশি লাগায় তাদের ত্বকে মেলানিন বেশি, তাই তারা কালো আবার যাদের কম লেগেছে তারা সাদা। আমরা আমাদের অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে রেখে যেতে পারি স্মৃতিস্থ করে বা লিখে। এসব নিয়েই আমরা মানুষ।
কথা হলো আমাদের ভাষাগুলো কী এক ? না। আমাদের খাদ্যাভ্যাস কী এক ? না। আমাদের জীবন যাপন প্রণালী এবং জীবনাচার কী এক? না। ভাষা এবং সংস্কৃতি সামাজিক সৃষ্টি, সামাজিক অভ্যাস। তবে কেন এক নয়? কোন ইউনিভার্সাল ল্যাংগুয়েজ এন্ড কালচার নিশ্চয়ই আমাদের জন্য জমা নেই, যে- আমাদের সব ভাষা সংস্কৃতি ফেলে আমরা সেই বিশ্ব মানব ভাষা সংস্কৃতি ধারণ করবো এবং তা অটোমেটিক সফটওয়ারের মতো আমাদের মধ্যে কাজ করবে! না নেই। কেউ কেউ বলতে পারেন ইরেজীতো হচ্ছে ! পাশ্চাত্য সংস্কৃতিরতো আন্তর্জাতিকি করন হচ্ছে! সেটাও কোন একটি জাতির ভাষা, কোন একটি অঞ্চলের মানুষের জীবনাচার বা সংস্কৃতি। এর বিস্তার লাভের পেছনেও রয়েছে দীর্ঘ আগ্রাসনের ইতিহাস।
কাজেই আমরা আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, সমস্ত জাতীয় বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করে খালি মাথা, সাদা পৃষ্ঠার মতো শুধু মানুষ বা বিশ্ব মানুষ হতে পারি না। এটি একটি বুদ্ধিহীন আবেগের অপরিপক্ব ভাবনা। আর এ কারণেই মানুষের সমাজে বাঁচতে গেলে আমাদের পরিচয় লাগে, কিট পতঙ্গের লাগেনা। কারণ ওসব প্রাণীদের অস্তিত্ব বোধের অতিরিক্ত বোধ খুবই সামান্য।
তাহলে আমরা বিশ্ব মানব কেমন করে হই ? হই, আমাদের নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতিকে ভালোবেসে এবং জাতি পরিচয়কে ধারণ করে যখন পৃথিবীর সমস্ত মানুষ এবং তাদের জাতিসত্তা ও ভাষা-সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা বোধ করি, সবার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ করি- তখনই আমরা বিশ্ব মানব হই। তখন পৃথিবীর সব ভাষা-সংস্কৃতির প্রতিই আমাদের উত্তরাধিকার বোধ হয়। সব মানুষকেই তখন আপনার মনে হয়।এমন কি এই মহান ভালোবাসাবোধ মানুষকে প্লাবিত করে তখন পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ-প্রকৃতি অব্ধি পৌঁছে।

কাজেই জাতি পরিচয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে সব বাঙালিরা বাঙালীত্বকে অস্বীকার করে - কোন বিশেষ ধর্মীয় চেতনায় বা অতি আন্তর্জাতিক বোধে শুধু বিশেষ সম্প্রদায়ের লোক বা শুধুই মানুষ হতে চায় তাদের অবস্থা আর অতি জাতীয়তাবাদী বা উগ্রজাতীয়তা বাদীদের অবস্থা একই রকম, মূর্খতায় পরিপূর্ণ।

অতি জাতীয়তাবাদী চেতনা বা উগ্রজাতীয়তাবাদ একটি অসুখের মতো ব্যাপার। কারণ তারা ভুলে যায় দিন শেষে আমার সবাই মানুষ, পৃথিবীর সন্তান। সে দিক থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বেশ উদার। 'সবার উপর মানুষ সত্য'- এই মহান বাণী কিন্তু সেই মধ্যযুগে বাঙালি মনীষার প্রতিভাস।