বাংলা ফন্ট

নিলামে দুর্লভ রত্নভাণ্ডার

08-11-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  নিলামে দুর্লভ রত্নভাণ্ডার

ঢাকা: ফরাসি শিল্প সংগ্রাহক পিয়েরে ভারিতে ১৯২০ সাল থেকে আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুর্লভ সব বস্তু সংগ্রহ করে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক রত্নভাণ্ডার। এই রত্নভাণ্ডারগুলোর অনেক কিছুই সেখানকার ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সেগুলোর মূল্যমান অনেক। পৃথিবীর নানা প্রান্তের শিল্পপ্রিয় মানুষরা উন্মুখ হয়ে থাকতেন তার থেকে দুর্লভ সব শিল্পকর্মগুলো সংগ্রহ করতে।
 
পিয়েরে ভারিতে নিজের মতো কিছু গ্রাহকও তৈরি করতে সমর্থ হয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালে প্যারিসের মোন্তপারনাসে এলাকায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করলে সেখানে অনেক বিখ্যাত মানুষ হাজির হন। এই তালিকায় ছিলেন স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো থেকে শুরু করে ফরাসি চিত্রশিল্পী হেনরি ম্যাটিসে  পর্যন্ত।
 
এভাবে বিভিন্ন সময়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করে দুর্লভ সব শিল্পকর্ম বিক্রি করতেন পিয়েরে ভারিতে। কিন্তু এমন কিছু দুর্লভ শিল্পকর্ম তিনি নিজের সংগ্রহে লুকিয়ে রেখেছিলেন যা কখনোই জন সম্মুখে আনাই হয়নি। এবার সেই ধরনের কিছু দুর্লভ শিল্পকর্ম নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ভারিতে পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আলাইনে দে মোনব্রিসন নামের এক ফরাসি শিল্পবোদ্ধা।
 
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী এসব দুর্লভ শিল্পকর্মের পাশাপাশি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের একটি দুর্লভ শিল্পকর্ম। আঠারো শতকের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের প্রথম শাসক কিমেহামেমা-১ এর একটি কাঠের তৈরি প্রতিকৃতি এই নিলামের অন্যতম আকর্ষণের বস্তু। কাঠ দিয়ে তৈরি এই শাসককে হাওয়াইয়ের যুদ্ধের রাজা হিসেবে অভিহিত করা হয় যাকে কু-খাইলি-মোকু নামে ডাকা হয়। সাড়ে ৩৫ লাখ ডলার থেকে এটির দাম শুরু হবে। এই শিল্পকর্মটির সঙ্গে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত একটি শিল্পকর্মের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৮২২ সালে লন্ডন মিশনারি সোসাইটি সেটি সংগ্রহ করেছিল।
 
ধারণা করা হচ্ছে, একই ব্যক্তি ঐ দুটি শিল্পকর্ম তৈরি করেছিলেন। একারণে শিল্পকর্ম সংগ্রাহকদের জন্য এই নিলামকে দেখা হচ্ছে দারুণ এক সুযোগ হিসেবে। কু-খাইলি-মোকুর মতো আরো বেশকিছু চিত্তাকর্ষক শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হবে নিলামে। এর আগে ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো পিয়েরে ভারিতের সংগ্রহশালার কিছু শিল্পকর্ম নিলামে তোলা হয়েছিল ভারিতে পরিবারের পক্ষ থেকে। ১১ বছর পর আবারো কিছু দুর্লভ শিল্পকর্ম নিলামে তুলতে যাচ্ছেন পিয়েরে ভারিতের ছেলে ক্লাউদে ভারিতে। একান্তই নিজের জন্য এগুলো নিজের কাছে রেখেছিলেন ক্লাউদে ভারিতে। ভারিতে পরিবারের মতে, আদিবাসীদের তৈরি করা শিল্পকর্মগুলো সব সময়ই পৃথিবীর ইতিহাস উন্মোচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একারণেই এগুলোর মূল্যমান কমার বদলে দিন দিন বাড়ে।সিএনএন

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ